গ্রেনেড সরবরাহকারী তাজউদ্দিনকে ভূয়া নাম-ঠিকানায় পাসপোর্ট দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত ভয়াবহ হামলায় গ্রেনেড সরবরাহকারী মাওলানা তাজউদ্দিনকে ভূয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্ট দিয়ে পরিকল্পিতভাবে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ২১ আগস্ট হামলার পর অবিস্ফোরিত আর্জেস গ্রেনেড উদ্ধার করে তা মামলার আলামত হিসেবে জব্দ না করে আদালতের যথাযত নির্দেশ ছাড়া উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধ্বংস করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গতকাল মঙ্গলবার ১৯ তম দিনের মতো যুক্তিতর্কে এ তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা বাস্তবায়নে দেয়া আশ্বাস অনুযায়ী প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ মামলার আসামি ডিজিএফআই ও পুলিশের কর্মকর্তাগন। রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। মামলার কার্যক্রম াজ বুধবারর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। প্রধান কোঁসুলিকে যুক্তিতর্ক পেশে আরো সহায়তা করছেন আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল ও ফারহানা রেজা। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষে মো. আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত ও আশরাফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আবদুল সোবহান তরফদারসহ অন্যান্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষি (পিডব্লিও-৮৪) মেজর (অব:) সৈয়দ মুনিরুল ইসলাম, (পিডব্লিও-৮৫) আবদুস সাত্তার (জব্দ তালিকা), (পিডব্লিও-৮৬) মো. খালেক (জব্দ তালিকা), (পিডব্লিও-৮৭) মো. ওবায়দুল হক (জব্দ তালিকা), (পিডব্লিও-৮৮) আশিক সাঈদ, (পিডব্লিও-৮৯) খন্দকার ফজলে রহিম, (পিডব্লিও-৯০) লে. কর্নেল মো. রফিকুল ইসলাম, (পিডব্লিও-৯১) পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার রেজাউল হাসান, (পিডব্লিও-৯২) হাফেজ হুমায়ূন কবির, (পিডব্লিও-৯৩) রফিকুল ইসলাম, (পিডব্লিও-৯৪) আলমাস উদ্দিন, (পিডব্লিও-৯৫) পুলিশ কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান খন্দকার, (পিডব্লিও-৯৬) পুলিশ কর্মকর্তা মো. মারুফুল হাসান, (পিডব্লিও-৯৭) এইচএম সোহরাওয়ার্দী, (পিডব্লিও-৯৮) মো. মাহবুবুর রহমান, (পিডব্লিও-৯৯) খন্দকার মিজানুর রহমান (জব্দ তালিকা). (পিডব্লিও-১০০) মেজর (অব:) শামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী শামস, (পিডব্লিও-১০১) মেজর আবুল মারুফ আশরাফুল কবীরের দেয়া জবানবন্দিও আলোকে যুক্তিতর্ক পেশ করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী এ মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নিরীহ জজ মিয়ার (জজ মিয়াকে দিয়ে জবানবন্দি আদায় করে মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হয়) মা জোবেদা খাতুনের জবানবন্দির আলোকে যুক্তিতর্ক পেশ অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম কাল বুধবার পর্যন্ত মূলতবি করা হয়েছে। সাক্ষীদের জবানবন্দীর আলোকে রাষ্ট্রপক্ষ আসামীদের অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, গ্রেনেড সরবরাহকারী জঙ্গি মাওলানা তাজউদ্দিনকে (বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই) ভূয়া নাম বাদল ও ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে পাকিস্তান পাঠানো, ভয়াবহ ওই হামলার আলামত নষ্ট এবং অপরাধীদের বাঁচাতে বিভিন্ন তৎপরতার বিষয় গতকাল মঙ্গলবার যুক্তিতর্কে তুলে ধরে। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৫১১ জনকে সাক্ষি করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির জ্যেষ্ঠ বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দসহ ২২৫ জনের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামীপক্ষেও ২০ জন সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এসব সাক্ষ্য জেরা করেছে। ২১ আগষ্টের ওই নৃশংস হামলায় পৃথক দুটি মামলায় মোট আসামি ৫২ জন। মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী, লে.কমান্ডার (অব:) সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ মোট ৮ জন জামিনে রয়েছে। তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল (এলপিআর) এটিএম আমিন, লে.কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারসহ ১৮ জন এখনো পলাতক। এ ছাড়া ৩ জন আসামি জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পলাতক আসামীদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী রয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পতœী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।